আল্লাহ তাঁর ইবাদতের জন্য মানব ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত : ৫৬)
আরবি ইবাদাত শব্দটি আবদ বা দাস শব্দ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। দাসত্ব বলতে উবুদিয়্যাত ও ইবাদত দুটি শব্দ ব্যবহূত হয়। উবুদিয়্যাত অর্থ লৌকিক দাসত্ব আর ইবাদত অর্থ অলৌকিক দাসত্ব। আল্লামা রাগিব ইস্পাহানি (রহ.) বলেন, উবুদিয়্যাত হলো বিনয়, ভক্তি ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করা। আর ইবাদত এর চেয়েও অধিক গভীর অর্থজ্ঞাপক। কেননা ইবাদত হলো চূড়ান্ত বিনয়, ভক্তি ও অসহায়ত্ব প্রকাশ। সেটা প্রকাশ করা হবে সেই পবিত্র সত্তার সমীপে যিনি চূড়ান্ত কর্ম-ক্ষমতা বা দয়ার মালিক। তিনি ছাড়া আর কেউ এমন চূড়ান্ত বিনয়-ভক্তি পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না। (আল মুফরাদাত, পৃষ্ঠা ৩১৯)
আল্লামা মুনাবি (রহ.) বলেন, ‘ইবাদাতের আভিধানিক অর্থ চূড়ান্ত বিনয়-ভক্তি, অসহায়ত্ব ও মুখাপেক্ষিতা।’ (ফয়জুল কাদির : ৩/৫৪০)
চূড়ান্ত ভক্তি প্রকাশ করে চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারীর জন্য যে কাজ করা হয় তা বিভিন্ন পর্যায়ের হয়ে থাকে। কিছু কাজ মানুষ ইবাদত হিসেবেই করে। কোনো অবিশ্বাসী তা করে না। কেবল বিশ্বাসীরাই তা করে থাকেন। যেমন নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি। কিছু কাজ এমন যা মানুষ ইবাদত হিসেবেও করে এবং তার সঙ্গে জাগতিক বিষয়ও জড়িত থাকে। যেমন প্রশংসা করা, ভয় করা, আনুগত্য করা ইত্যাদি। এগুলো মানুষ হিসেবে জাগতিকভাবে এক মানুষ অন্য মানুষের জন্য করে। আবার বান্দা হিসেবে মানুষ আল্লাহকে করে।

