নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কামশাইর এলাকার মূর্তিমান আতংক সন্ত্রাসী আবুল হোসেন ও তার বাহিনীর সদস্য মাহমুদ হাসান, রিপন সহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার না হওয়ায় আতংকে দিন কাটাচ্ছে কামশাইর গ্রামবাসী। বন্ধ হচ্ছে না এই বাহিনীর চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, প্রতারণা ও জুয়ার আসর। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেও এই বাহিনী রয়েছে বহাল তবিয়তে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কামশাইর এলাকার মৃত আব্দুস সালামের পুত্র মূর্তিমান আতংক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আবুল হোসেন গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করতো। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে আবুল হোসেন আওয়ামীলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে কামশাইর এলাকায় নানা অপকর্ম শুরু করে। এ সময় সন্ত্রাসী আবুল হোসেন কামশাইর এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর সন্ত্রাসী আবুল হোসেন বনে যান বিএনপি নেতা। নিজেকে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসী আবুল হোসেন এবং আবুল হোসেনের দুই পুত্র মাহমুদ হাসান ও রিপন সহ বিশাল বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় বীরদর্পে চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জুয়ার আসর, মানুষের সাথে প্রতারনা সহ নানা অপকর্ম। এলাকায় কায়েম করে ত্রাসের রাজত্ব। শুধু তাই নয়, আবুল হোসেনের দুই পুত্র সন্ত্রাসী মাহমুদ হাসান ও রিপন এলাকায় একটি কিশোরগ্যাং চক্র গড়ে তুলেছে। মাহমুদ হাসান ও রিপনের নেতৃত্বে ঐ কিশোরগ্যাং গ্রুপটি বর্তমানে এলাকায় ইভটিজিং, মাদক বানিজ্য, চুরি, ছিনতাই করে বেড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগে আরও জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল বিকালে কামশাইর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে অটোরিক্সা যোগে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মতিন ভুঁইয়া (৪৩), তার স্ত্রী জহুরা আক্তার সুমি (৩০) ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া কন্যা মুশফিকা তানহা (৯) কোনাপাড়ার বাসায় ফিরছিলেন। পথি মধ্যে কামশাইর পাকা রাস্তায় কামশাইর এলাকার সন্ত্রাসী আবুল হোসেন, মাহমুদ হাসান, রিপন সহ আরও ৩/৪ জন সন্ত্রাসী অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আব্দুল মতিন ভুঁইয়ার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা আব্দুল মতিন ভুঁইয়াকে পিটিয়ে আহত করে এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্ঠা করে। এতে আব্দুল মতিন ভুঁইয়ার স্ত্রী জহুরা আক্তার সুমি ও কন্যা মুশফিকা তানহা বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে। সন্ত্রাসীরা জহুরা আক্তার সুমি‘র গলায় থাকা ২ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও আব্দুল মতিন ভুঁইয়ার পকেটে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তাদের ডাক ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। এ ঘটনায় কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মতিন ভুঁইয়ার স্ত্রী জহুরা আক্তার সুমি বাদি হয়ে সন্ত্রাসী আবুল হোসেন, মাহমুদ হাসান, রিপন সহ আরও অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসী আবুল হোসেন, মাহমুদ হাসান, রিপন সহ অন্যান্য সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে আতংক কাটছে না এলাকাবাসীর।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য না।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, কেউ এলাকায় অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না। আবুল হোসেন বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

