ঢাকা: আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার দাবিতে 

এবং মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ ও  পূর্নাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশন (বিএমজিটিএ)।

শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশনের (বিএমজিটিএ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ।

এ সময়ে তিনি বলেন, গত২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৯৫,৬৪৪ কোটি টাকা, যা মোট জাতীয় বাজেটের ১২ দশমিক এক শতাংশ। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দ ৯৪, ৭১০ কোটি টাকার তুলনায় মাত্র ৯৩৪ কোটি টাকা বেশি।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ১৫-২০% বা জিডিপির ৪-৬% বরাদ্দ দেওয়ার অঙ্গীকার থাকলেও বাংলাদেশের বরাদ্দ উভয় মানদণ্ডে অনেক কম। যার নেতিবাচক প্রভাব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পড়ে। তা ছাড়া গত অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতে উন্নয়নের জন্য সরকার ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৪৪ হাজার ১০৯ কোটি টাকার চেয়ে বেশি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা খাতে ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১১ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকার চেয়ে বেশি।

এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণায়ের বাজেট টাকার অঙ্কেও কমেছে। এ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।

ইউনেস্কোর পরামর্শ হলো একটি দেশের শিক্ষাখাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া। অথচ আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখেনি কোন সরকার। লিখিত বক্তব্যে তিনি ৯ টি দাবি উল্লেখ করেন।

এসময় তিনি দাবি জানান, আসন্ন ঈদুল আজহায় পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান, ৯ম পে-স্কেল প্রদান, সরকারি নিয়মে মেডিকেল ও বাড়ি ভাড়া প্রদান, অনুপাত প্রখা বাতিল করে সকল প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রদান, মাদ্রাসা থেকে স্কুল-কলেজ এবং স্কুল থেকে মাদ্রাসায় বদলী প্রদান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা এমপিও ভুক্তকরণ, শিক্ষা কমিশন গঠন, মাদরাসাসহ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ, মাদরাসার প্রশাসনিক পদে জেনারেল শিক্ষকদের নিয়োগ প্রদান করার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, ফকরুল ইসলাম, কে-এমন শামীম, আব্দুস সাকুর, কামরুন্নাহার, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল হাই, ফজলুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মেহেদী হাসান সরকার, সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মো: এলিন তালুকদার, অর্থ সম্পাদক আলাউদ্দিন, রেজাউল হক মন্ডল, আরমান শাহজাদা, রিপন খন্দকার, সালেহ উদ্দিন, আসাদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version