নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অমিত হাসান মিয়াজ নামের এক চাকুরীজীবীকে দেহ তল্লাশির নামে অপহরণের সময় সিআইডি পরিচয়দানকারী পুলিশ সদস্যদের গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সোনারগাঁও উপজেলার হাবিয়া বৈদ্যপাড়া এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে ভুক্তভোগী অমিত হাসান মিয়াজ বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। অমিত হাসান মিঁয়াজ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় চাকরি করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, ঢাকা দক্ষিণ ডিপি কার্যালয়ে কর্মরত পুলিশের এসআই মামুন মাতব্বর (৪০), এএসআই আমানুল্লাহ (৩৪), পুলিশ সদস্য কবির (৩৩), আকাশ আহমেদ (৩০) , ড্রাইভার আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০), সেলিম মিয়া (৪৫)।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এবং এজাহারের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, গত ১৮ জুন দুপুরে সোনারগাঁওয়ের বারদী পুরনো বাস স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি যোগে অমিত হাসান মিরাজ তার এক আত্মীয়কে সাথে নিয়ে রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় গিয়ে পাবলিক টয়লেটের সামনে দাঁড়ায়। সেখানে সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই আসামিরা টয়লেটের ভিতর নিয়ে দেহতল্লাশি করে কিছু না পেয়ে জোরপূর্বক অপহরণ করে তাদের গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করে। এ সময় অমিত হাসান মিরাজ ডাক চিৎকার শুরু করলে তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে অভিযুক্তদের অপহরণকারী হিসেবে মারধর করেন।
এরমধ্যে পুলিশ সদস্য আকাশ আহমেদ , ড্রাইভার আবু বক্কর সিদ্দিক, সেলিম মিয়া পালিয়ে যায় এবং পুলিশের এসআই মামুন মাতব্বর, এএসআই আমানুল্লাহ, পুলিশ সদস্য কবিরকে আটক করা হয় ।
পরে অভিযুক্ত আটক ওই ৩ জনকে আড়াইহাজার উপজেলার শান্তিনগর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আহত অবস্থায় আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের রেফার্ড করেন।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, আসামিদের যোগসাজশে গত ১৫ জুন জয়নাল নামের আরেক আত্মীয়কে এভাবেই অপহরণ করে নিয়ে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তখন জয়নালের স্ত্রী সামিরুন ও রুবিয়া বেগম ঢাকার অজ্ঞাতন স্থান থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে জয়নালকে ছাড়িয়া নেন। এছাড়া একই কায়দায় জাকির হোসেন নামে আরেকজনকে অপহরণ করে নিয়ে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। জাকির হোসেনের মা জাহানারা বেগম আড়াই লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পায়।