নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগ তুলে তিন নারীকে বেঁধে নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ডহরগাও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডহরগাও এলাকার সেলিম মিয়ার বাড়িতে তিন নারী প্রবেশ করলে তাদের বিরুদ্ধে স্বর্ণের চেইন চুরির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে স্থানীয় লোকজন তাদের হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাদের দঁড়ি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কেঁচি দিয়ে তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।
আটক তিন নারী হলেন, কুমিল্লার মুরাদনগর থানার জাহাপুর এলাকার বাবু মিয়ার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার, খুলনার খালিশপুর থানার দিঘলিয়া এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী ইতি আক্তার এবং বালিয়াপাড়া এলাকার রুহুল আমিনের স্ত্রী শারমিন।
অপর দিকে ওই নারীরা জানায় বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য তারা সেই বাড়িতে যায় তাদের মিথ্যা অভিযোগে আটক করে লাঞ্ছিত করে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করে চুল কেঁটে দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন নারীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়রা বলছেন, অপরাধ তো অপরাধই। প্রতিটি অপরাধেরই বিচার হওয়া দরকার। তাই ঘটনার সঠিক
তদন্ত করে ওই নারীরা অভিযুক্ত হয়ে প্রশাসন যেনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তাছাড়া আইন নিজের হাতে তুলে নেয়াও গুরুত্বর অপরাধ। চোরকে পুলিশে না দিয়ে রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করা ও কোন পুরুষ হয়ে নারীর শরীরে আঘাত করা ও মাথার চুল কেটে দেয়াও একটি গুরুত্বর অপরাধ। তাই এ ঘটনার ছাড়া তদন্ত করে উপযুক্ত বিচারের দাবি জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, চুরির অভিযোগে আইনগত শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। কাউকে বেঁধে মারধর করা বা মাথার চুল কেটে দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

