নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার কর্ণগোপ এলাকার ঔষধ ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম মাহিনকে (৩২) একদল সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে দোকান থেকে অপহরণ করে সিএনজিতে করে নিয়ে নিয়ে যায়। এসময় পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা পর অক্ষত অবস্থায় উপজেলার কুশাবো এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (৯ মার্চ) ইফতারের পরপর মাহিন অপহরণের শিকার হন এবং অপহরণের আংশিক টাকা দিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মুক্ত হন।
অপহরণের শিকার সাংবাদিক মাইনুল ইসলাম মাহিন উপজেলার মুড়াপাড়ার ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার মো আলী আকবরের ছেলে। তিনি দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার রূপগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।
ভুক্তভোগী মাইনুল ইসলাম মাহিন বলেন, কর্ণগোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখান থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়। পরে উপজেলার কুশাবো নামক নির্জন স্থানে নিয়ে হাত, পা, চোখ, মোখ বেঁধে নির্যাতন চালায় এবং তার পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরে মাহিনের স্ত্রী দুইবারে বিকাশের মাধ্যমে ২৪ হাজার টাকা তাদেরকে পাঠায়। অপহরণকারীরা তাকে দোকান থেকে উঠিয়ে নেয়ার সময় ক্যাশে থাকা নগদ ৫৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময়ের দোকানের ভিতরে এলোপাথারি মারধর করা হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
ভুক্তভোগী মাইনুল ইসলাম মাহিনের স্ত্রী মাকসুদা রহমান জানান, অপহরণকারীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে মাইনুলকে ছাড়াতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একপর্যায়ে তারা ৫০ হাজার টাকায় নেমে আসলে বিকাশের মাধ্যমে টাকাগুলো পাঠাতে বলে। অন্যথায় আমার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ইতিমধ্যে আমি দুইবারে বিকাশে তাদের ২৪ হাজার টাকা পাঠাই। বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তারা বারবার চাপ দিচ্ছিল। এদিকে রাত্র সাড়ে ১১ টার দিকে পুলিশী তৎপরতা টের পেয়ে অপহরণকারীরা মাহিনকে ছেড়ে সটকে পরে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, সাংবাদিক মাহিনকে অপহরণের অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা তার অবস্থান শনাক্ত করি। পরে কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ি ও ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির দুইটি টিমকে সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অপহরণকারীরা পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে মাহিনকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাই কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

