পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মেঘনা নদীর পানি শোধন করে ঢাকায় সরবরাহের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে নদীতে পানি গ্রহণ কেন্দ্র, কাঁচা পানি পরিবহন লাইন, ৫০ কোটি লিটার দৈনিক সক্ষমতার পানি শোধনাগার এবং শোধিত পানি সরবরাহের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক। বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুর এলাকায় অবস্থিত মেঘনা পানি শোধনাগার (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) প্রকল্প পরিদর্শনজালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা মহানগরের দুই সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে মেঘনা নদী থেকে পানি এনে শোধনের মাধ্যমে সরবরাহের লক্ষ্যে এই বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অতীতে ঢাকা শহরের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছিল, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করতে পারত।
তিনি বলেন, “এই সংকট মোকাবিলায় মেঘনা নদীর সারফেস ওয়াটার ব্যবহার করে তা ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, “এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর আরও একটি অনুরূপ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি লিটার পানি ঢাকা মহানগরে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সারফেস ওয়াটারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।”
এ সময় মন্ত্রী প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।


