আড়াইহাজার উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় 

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ২,৫০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে রোপা আমন ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার, শাক-সবজির বীজ ও সার এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আজমুল হক। অনুষ্ঠানে আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসাদুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রাসেল মিয়া। এসময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করে অধিক উৎপাদনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুর রহমান বলেন, কৃষি ও পরিবেশ—উভয় খাতের উন্নয়নে এ ধরনের কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের দেওয়া সহায়তা সঠিকভাবে ব্যবহার করে কৃষকরা যেন সর্বোচ্চ সুফল পান, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি, সভাপতি এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ কৃষকদের হাতে রোপা আমন ধানের বীজ, সার, সবজি বীজ এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রাসেল মিয়া বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আড়াইহাজার উপজেলার মোট ২ হাজার ৫০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে রোপা আমন ধানের উন্নত (উফশী) জাতের বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষক ৫ কেজি ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে পাবেন। এছাড়াও আড়াইহাজার উপজেলায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির মোট ২ হাজার ৭২০টি গাছের চারা ৩০০ কৃষক ও ৬১ টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে বিতরণ করা হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিটি কৃষক ৫টি করে গাছের চারা ও জৈব সার এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ২০টি করে গাছের চারা ও জৈব সার পাবেন। একই সঙ্গে খরিপ-২ মৌসুমে শাক-সবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ১০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সবজি বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমও শুরু করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষক ৭ ধরনের সবজি বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি সার এবং ১৫ কেজি এমওপি সার পাবেন। তিনি আরও জানান, বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমি ব্যবহার করে সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক পরিবারগুলো পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ও করতে পারবেন। লেবু জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার ৬০ জন কৃষকের মাঝে লেবুর চারা বিতরণ করা হবে। প্রতিটি কৃষক ৫টি করে লেবুর চারা এবং জৈব সার পাবেন। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপজেলায় লেবু জাতীয় ফসলের আবাদ সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নিয়মিতভাবে কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। উন্নত জাতের বীজ ও প্রয়োজনীয় সার কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ফলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুসংহত হচ্ছে।  পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং অর্থনৈতিকভাবেও মানুষের উপকারে আসে। ফলজ ও বনজ গাছ গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version