নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার আল-মদিনা শপিং কমপ্লেক্সে দোকান ভাড়া নিয়ে চুক্তি অনুসারে ভাড়ার বকেয়া ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ না করে উল্টো দোকান আত্মসাতের চেষ্টায় ভবন মালিকের নামে মিথ্যা অপপ্রচার করার অভিযোগ উঠেছে কলাপাতা রেস্তোরাঁর মালিক মো. মাহাবুব মামুন শিকদার ও ম্যানেজার মো. ইমন মিয়ার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ভবন মালিক মাজহারুল ইসলাম নবী সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
ভবন মালিক মাজহারুল ইসলাম নবী জানান, ২০২০ সালের ১লা জানুয়ারী আল-মদিনা শপিং কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার একটি দোকান মাসিক ৩৭,৫০০/- টাকা ভাড়া ভাড়া নির্ধারন করে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের চুক্তির মাধ্যমে মো. মাহাবুব মামুন শিকদারগংদের কাছে মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দেন তিনি। পরে দোকানটিতে কলাপাতা বার্গার নামে একটি রেস্তোরাঁ করা হয়। চুক্তিপত্র অনুসারে ভাড়া দেয়ার ৩ বছর পর থেকে প্রতি মাসে মূল ভাড়ার ৩০ শতাংশ বেশি হারে ভাড়া প্রদান করার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী ৪র্থ বৎসরে মূল ভাড়ার সাথে ৩০% ভাড়া বাড়ানো হবে অর্থাৎ (৩৭৫০০+১১,২৫০+৫,০০০) সার্ভিস চার্জ সহ প্রতি মাসে মোট ৫৩,০০০ টাকা করে ভাড়া পরিশোধ করার কথা রয়েছে। কিন্তু রেস্তোরাঁ মালিক প্রায় ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ না করে উল্টো বিভন্ন অজুহাতে প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। উপায় না পেয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্টের মাধ্যমে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করে ভবন ছাড়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। এতে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ তো দূরের কথা এখন উল্টো আমার বিরুদ্ধে নানা ভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যা জালিয়াতি ও প্রতারণা। কলাপাতা বার্গারের এসব প্রতারণার বিচার চেয়ে সম্প্রতি সোনারগাঁও থানায় অভিযোগও দায়ের করেন তিনি। প্রতারণার নানা অভিযোগের সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী ভবন মালিক মাজহারুল ইসলাম নবী।
নারায়ণগঞ্জ জজকোর্টের এ্যাডভোকেট ডালিম হোসেন জানান, ২৬ জুলাই নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে ভবন মালিকের প্রাপ্য বকেয়া ভাড়া ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে কলাপাতা বার্গারের নামের ওই রেস্তোরাঁ মালিককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে দ্রুত বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করে দোকান ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পর থেকে রেস্তোরাঁ মালিক বিভিন্ন ভাবে ভবন মালিককে হেয়প্রতিপন্ন করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আবার মোটা অংকের টাকাও দাবি করে আসছে। যা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুসারে গুরুত্বর ও শাস্তি যোগ্য অপরাধ। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করে তিনি তার ভাড়ার দোকান ভবন মালিকের কাছে বুঝিয়ে দিবেন।
এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে কলাপাতা বার্গারের জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগী ভবন মালিক সহ স্থানীয় সচেতন মহল।

