নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বেড়েই চলছে মাদক সেবনকারীদের অত্যাচার। রেহাই পাচ্ছেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। রাতের অন্ধকারে হানা দিয়ে নগরপাড়া ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুল নামের একটি বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, মূল্যবান আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ লুট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে চক্রের এক সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও, মূল হোতাসহ দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আর মাদক সেবীদের অত্যাচার ও মাদক বন্ধের দাবিতে শনিবার দুপুরে উপজেলার নগরপাড়া এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়াসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের প্রায় ৩ শতাধিক ছেলে মেয়ে ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। ওই এলাকায় মাদক সেবীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এলাকার মানুষের উপরে অত্যাচার ও চুরির ঘটনা বেড়ে চলেছে। বর্তমানে ওই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ওই মাদকসেবীদের কাছ থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
শনিবার ভোরে তিনজন মাদকসেবী নগরপাড়া ব্রাইট শিশু কানুন হাই স্কুলের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, মূল্যবান আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ লুট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাসেল আহমেদ। এ সময় এলাকার মানুষ টের পেয়ে ওই মাদক সেবীদের ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং মাদকসেবী সজিব ওরফে সইজ্জাকে গ্রেফতার করে। এই চক্রের সাথে জড়িত কালা জাহাঙ্গীর ও আলআমিন নামে আরো দুজন পালিয়ে যায়।
আর মাদক সেবীদের অত্যাচার, চুরি ও মাদক বন্ধের দাবিতে শনিবার দুপুরে উপজেলার নগরপাড়া এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, কয়েকদিন পরপরই এই মাদক সেবীরা চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। এদের অত্যাচার অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসীর স্কুল শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের প্রায়ই ডিস্টার্ব করছে এসব মাদকসেবীরা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, এলাকায় মাদক সেবীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। স্কুলে ভালো করে পড়তে পারি না তাদের অত্যাচারে। সরকারের কাছে মাদকসেবন এবং মাদক বন্ধের দাবি জানাই।
ব্রাজিল শিশু কানুন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, মাদকসেবীরা আমার স্কুলে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, মূল্যবান আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ লুট করেছে। এখন শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের কাছে এর প্রতিকার চাই।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, এক মাদক সেবী চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো দুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মাদকসেবী এবং মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে উপজেলা প্রশাসন কঠোর রয়েছে।
প্রতিটি এলাকায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে মাদকসেবী এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসন নির্মূল করবে বলে প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

