যেনো হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই অপরাধ দমনে যে কোন মূল্যে “রূপগঞ্জ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ দূর করার ঘোষণা দেন তিনি। তার এ সাহসী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে একাট্টা রূপগঞ্জবাসী। এ ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেতাকর্মী-গ্রামবাসী ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রায় দিনই চলছে সাঁড়াশি অভিযান। প্রতিটি অভিযানেই বিপুল পরিমান মাদক, অস্ত্র, গুলি উদ্ধার সহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে ১২ই মার্চ বুধবার মধ্যরাতে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা গ্রামবাসীকে নিয়ে মাদককারবারিদের ধাওয়া করে, বিদেশী পিস্তল, বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার সহ মাদকের গডফাদার আবু হানিফ ও তার ১ সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। এসময় মাদক কারবারীদের হামলায় আহত হন যুবদলের ৮ নেতা।

সরেজমিনে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাত বাড়ালেই মেলে নিষিদ্ধ মরণনেশা দ্রব্য মাদক। উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক স্পটে দিন রাতে অবাধে চলে মাদক বিক্রির হিড়িক। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ভোলাব, দাউদপুর, রূপগঞ্জ, কায়েতপাড়া, মুড়াপাড়া, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, কাঞ্চন ও তারাব পৌরসভার চারপাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এসব মাদক কারবারীরা। শর্টকাট ফর্মুলায় ধনী হওয়ার আশায় অনেক তরুণ ও নারীও এ পেশায় ঝুঁকছেন। মরণ নেশা গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, আইসপিল, টিডিজেসিক ও লুপিজেসিক ইঞ্জেকশনসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্যে সয়লাব হয়ে গেছে রূপগঞ্জ। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে, উপজেলায় প্রায় ১ লাখ মাদকসেবী রয়েছে। বছরে তারা প্রায় ১৫০ কোটিরও বেশি টাকার মাদক গ্রহণ করেন। মাদকের বিষাক্ত ছোবলে হাজার হাজার তরুণের জীবন বিপন্ন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চুনোপুঁটিরা ধরা পড়লেও রাঘব-বোয়ালরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরেই। তাই স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রচলন রয়েছে রূপগঞ্জে মাদক যেনো ফেরিওয়ালার বাদাম।এসব বন্ধে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ ভাবে কাজ করছে। সপ্তাহের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়েই শোনা যায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলছে। তবুও যেনো অনিয়ন্ত্রিত এখানকার মাদক। তবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখানকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু স্বপ্নের রূপগঞ্জ গড়তে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ দূর করার ঘোষণা দেন। আর তারপর থেকেই বিএনপি নেতাকর্মী-গ্রামবাসী ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রায় দিনই চলছে সাঁড়াশি অভিযান। প্রতিটি অভিযানেই বিপুল পরিমান মাদক, অস্ত্র, গুলি উদ্ধার সহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আর দিনে দিনে মাদক নির্মূলের স্বপ্ন দেখছেন এখানকার বাসিন্দারা। তারই অংশ হিসেবে বুধবার মধ্যরাতে (১২ মার্চ) গ্রামবাসী মাদককারবারিদের ধাওয়া দিয়ে ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা সহ বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার করে। এসময় মাদকের গডফাদার আবু হানিফ ও তার ১ সহযোগীকে আটক করে বিএনপি নেতা-কর্মী সহ গ্রামবাসী। মাদককারবারীদের ছাড়িয়ে নিতে ও এলাকায় আতংক ছড়িয়ে দিতে মাদককারবারীরা গ্রামবাসীর উপর হামলা ও গুলি ছুঁড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে অভিযান চালিয়ে গুলি সহ পিস্তল উদ্ধার করে। এসময় মাদক কারবারীদের হামলায় আহত হন যুবদলের ৮ নেতা। মাদক নির্মূলে এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান গ্রামবাসী।
এসব বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, রূপগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ও পুলিশ সুপারের নির্দেশে নির্বাচনের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে রূপগঞ্জ উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় ১২ই মার্চ বুধবার রাত ১২ টারদিকে রূপগঞ্জের ঠাকুরবাড়ীর টেক এলাকায় মাদক কারবারিরা প্রাইভেটকার যোগে মাদক বহন করে নিয়ে যাবার সময় স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মী সহ গ্রামবাসী তাদের ধাওয়া করে ১টি পিস্তল, বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনসহ শীর্ষ মাদক কারবারি আবু হানিফকে তার এক সহযোগীসহ আটক করে। এসময় মাদক কারবারিরা বাঁচতে ও এলাকায় আতঙ্ক তৈরী করতে বেশ কয়েকরাউন্ড গুলি বর্ষন করে এবং নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। হামলায় ৮ যুবদল নেতাকর্মী আহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে আটককৃতদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জব্দ করা হয় মাদক বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানায় পুলিশ।

