খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসীর অতর্কিত হামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ওসি এবং ৪ আনসার সদস্য ও উপজেলা কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ ৯জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আনসার ও পুলিশ সদস্যরা ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রামগড় উপজেলার রামগড় ইউনিয়নের পূর্বাবলিপাড়া এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুপুর আনুমানিক সোয়া দুইটার দিকে ঐ এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
কাজী শামীম। এসময় আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলাকারীরা আদালত সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
এসময় হামলায় আহতরা হলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম, ইউএনও’র নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য এপিসি মো. সালাহ উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ-১, নুর মোহাম্মদ-২ ও খোরশেদ আলম। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ও পৌরসভার স্টাফসহ ৯ জন আহত হন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রামগড় উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী দলের ওপর হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং আনসার সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন বলে দাবি করেন রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম বলেন, অভিযান শুধুমাত্র অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পরিচালিত হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হামলাকারী ও অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ চলছে।


