নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কেশরাব গ্রামের উপর দিয়ে একটি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কাঞ্চন পূর্বাচল পাওয়ার জেনারেশন লিঃ) হাইভোল্টেজ ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন অপসরণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার বাদ জুম্মা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আধুরিয়া এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, আমিনুল ইসলাম নয়ন, আল আমিন, মাওলানা আব্দুর রশিদ, মোঃরিপন মিয়া, মোঃ আরিফ, আমিন, মাওলানা আব্দুর রশিদ, রিপন মিয়া, আরিফ, ইব্রাহীম মিয়া, সুমন, সঞ্জয় দাস, আলমগীর হোসেন, বাদল মিয়া, নুর আলম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের আমলে পূর্বাচলে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। কাঞ্চন পূর্বাচল পাওয়ার জেনারেশন লিঃ এর ৫৫ মেগাওয়াট প্রকল্পটির জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্মিত লাইনটি নির্ধারিত রুট ব্যবহার না করে কেশরাব গ্রামের উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জনগণের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও তৎকালীন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী মহলের ইচ্ছায় জনগনকে ভয় ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে লাইনটি নির্মাণ করা হয়।
বিদ্যুৎ লাইনটি চালু হওয়ার পর থেকে প্রায় শতাধিক দুর্ঘটনায় গ্রামের সাধারণ মানুষের বাড়ি ঘরের ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতি আগুনে পুড়ে গেছে, বসত বাড়িতে আগুন লাগা, হাই ভোল্টেজ কারেন্টের শর্টে খামারের গরু মারা যাওয়া, পুকুরের মাছ মারা যাওয়ার মতো ঘটনা নিত্যদিনই ঘটছে। সম্প্রতি গ্রামের এক দোকানদার মো. আরিফের উপর হাই ভোল্টেজ কারেন্টের ফ্লাসিংয়ের ফলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার অর্ধেক শরীর আগুনে পুড়ে যায়। যা অবৈধ এই বিদ্যুৎ লাইনের ভয়াবহতার প্রতিচ্ছবি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে আরো বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি আগামী দুই দিনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করার নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ লাইন কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও কোম্পানির লোক কর্ণপাত করেননি। লাইনটি বন্ধ হয়নি এবং এটা অপসারণের কোন উদ্যোগও নেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আগেও এই সমস্যা নিয়ে আমরা স্থানীয় প্রশাসন সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছি। তবুও কোন ফল মেলেনি।।
বিদ্যুৎকেন্দ্র কতৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চাইলেও তারা কর্ণপাত করেনা বরং বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব দেখিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীকে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন দেখায়। দ্রুত এর কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে আরও বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

