অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন এক পরীক্ষার্থী। পায়ে ব্যান্ডেজ, মুখে অক্সিজেন মাস্ক আর সাথে অক্সিজেন সিলিন্ডার—এমন ‘মুমূর্ষু’ বেশে অ্যাম্বুলেন্সে করে কেন্দ্রে এসেও শেষ রক্ষা হলো না দিনাজপুরের আব্দুস সালামের। পায়ের ব্যান্ডেজ খুলতেই বেরিয়ে এলো তিনটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস।
দৃশ্যটা কোনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নয়, বরং রংপুর সরকারি কলেজ বিসিএস পরীক্ষা কেন্দ্রের। মুখে অক্সিজেন মাস্ক, হাতে অক্সিমিটার, আর পায়ে রক্তমাখা ব্যান্ডেজ। সাথে আছে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্যালাইন। এমন সংকটাপন্ন অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে পরীক্ষা দিতে আসেন ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষার্থী আব্দুস সালাম। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও হাতের ইনজুরির অজুহাতে সাথে এনেছিলেন একজন শ্রুতিলেখকও।
”প্রথম দিন থেকেই তাকে এভাবে অ্যাম্বুলেন্সে আসতে দেখি। আমরা ভেবেছিলাম সত্যিই হয়তো তিনি খুব অসুস্থ। কিন্তু তার আচরণ ও গতিবিধি দেখে সন্দেহর দানা বাঁধে।” বৃহস্পতিবার পরীক্ষার হল পরিদর্শনে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সন্দেহ হলে তিনি তল্লাশির নির্দেশ দেন। প্রথমে কান্নাকাটি করে বাঁধা দিলেও একজন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে খোলা হয় পায়ের ব্যান্ডেজ। আর তাতেই বেরিয়ে আসে জালিয়াতির আসল রূপ। ব্যান্ডেজের ভেতর অভিনব কায়দায় লুকানো ছিল তিনটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস। অভিযুক্ত আব্দুস সালামের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিনা কবির জানান, ”আমরা চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে দেখি তার শারীরিক কোনো জটিলতাই নেই। স্যালাইন, অক্সিজেন বা ব্যান্ডেজ—সবই ছিল জালিয়াতির কৌশল। তার কাছ থেকে তিনটি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হয়েছে।” অভিযুক্ত আব্দুস সালামের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায়। জালিয়াতির দায়ে তাকে বহিষ্কারের পাশাপাশি বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (বিপিএসসি) জানানো হয়েছে। কমিশন এখন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। মেধার লড়াইয়ে এমন ডিজিটাল কারসাজি দেখে হতভম্ব খোদ কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা

