মুন্সিগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিখোঁজের চার দিন পর উদ্ধার হওয়া তরুণী হালিমা আক্তার (২০) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। ঘটনায় জড়িত চার আসামিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে চার আসামিই রবিবার (৩১ মে) মুন্সীগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
নিহত হালিমা আক্তার উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মো. মহসিন মিয়ার মেয়ে এবং ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের ইমন মিয়ার স্ত্রী। প্রায় পাঁচ মাস আগে তার বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের কারণে তিনি গত দুই মাস ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
মামলার তদন্তে আটক চার আসামি হলেন টেংগারচর ইউনিয়নের বড়ভাটেরচর এলাকার মো. আল-আমিন (৫০), মো. রাসেল (৪৪), মো. জামাল (৪০) এবং ভাড়াটিয়া মো. আবুল কালাম (৪৮)।
তদন্তে জানা যায়, আবুল কালাম ২৫ হাজার, রাসেল ১০ হাজার হালিমার কাছে টাকা পেতেন। এছাড়া জামাল দীর্ঘদিন ধরে হালিমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল একদিন শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা কররে জামালের মেয়ে দেখে ফেল এবং অটোরিকশাচালক আল আমিন বিভিন্ন সময় তাকে উত্যক্ত করতেন। একপর্যায়ে তারা পরিকল্পিতভাবে গত ২৬ মে হালিমাকে ডেকে এনে নৌকাযোগে টেংগারচর ইউনিয়নের বড়ভাটেরচর এলাকার একটি নির্জন ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর গলায় পরনের কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মেঘনা নদীর শাখা ফুলদী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
গত ২৯ মে সকালে বড়ভাটেরচর গ্রামের পূর্ব পাশে ফুলদী নদীতে ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে গজারিয়া নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে স্বজনরা মরদেহটি হালিমা আক্তারের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন হোসনেরা আক্তার বৃষ্টি গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।
পিবিআই সূত্র জানায়, হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ঘটনার ১৫ দিন আগে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায়।ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয় এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের তথ্য বেরিয়ে আসে।পরবর্তীতে চার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
হত্যার পর মরদেহের হাত-পা বেঁধে ফুলদী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি গোপন রাখা যায় এবং আলামত নষ্ট হয়।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা বলেন,তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রাইম সিন পরিদর্শন এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার চার আসামিই আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।রোববার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা। তিনি আরো জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

