নারায়ণগঞ্জ: আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব বিভাগের উদ্যোগে উপজেলার রূপসী বাস স্ট্যান্ড থেকে তারাব পৌরসভার শহিদ মিনার পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াত ইসলামী যুব ও ক্রিয়া বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইসরাফিল হোসেন সভাপতিত্বে ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াত ইসলামী যুব ও ক্রিয়া বিভাগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোহাম্মদ আলামিনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াত ইসলামীর সহ সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মুন্না। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোতালিব ভূঁইয়া, রূপগঞ্জ থানা দক্ষিণের জামায়াত ইসলামী সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানসহ রূপগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। এ সময় এলাকার শত শত সচেতন নাগরিকরা অংশ গ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘৫২-র ভাষা আন্দোলন, ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের প্রতিটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে যারা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তারা আর কেউ নন, তারা আমাদের তরুণ ও যুবসমাজ। একটি জাতিকে যদি নতুন করে গড়তে হয়, জাতিকে যদি আলোর পথ দেখাতে হয়, তবে সেই অগ্রযাত্রার নেতৃত্ব যুবসমাজকেই দিতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের এই যুবশক্তিকে ধ্বংস করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তারা চায় না আমাদের তরুণরা দেশ গড়ার কাজে কিংবা জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গঠনমূলক কাজে অংশ নিক। আর এই উদ্দেশ্যেই তারা সমাজে বিভিন্ন প্রকার প্রাণঘাতী মাদক আমদানি করছে এবং আমাদের যুবসমাজকে পরিকল্পিতভাবে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শুধু মাদকসেবীদের গ্রেফতার করে বা খুচরা বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ করে এই মহামারি বন্ধ করা যাবে না। যে সমস্ত রুট বা পয়েন্ট দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশ করছে, সবার আগে সেই আমদানির উৎসগুলো সিলগালা করতে হবে। মাদক যদি দেশে আসতেই না পারে, তবে তা বিক্রি হবে কীভাবে? আমরা দেখছি একদিকে যেমন মাদক ঢুকছে, অন্যদিকে দেদারসে বিক্রিও হচ্ছে। মাঝে মাঝে দু-একটি অভিযানে অপরাধীরা ধরা পড়লেও, কিছুদিন পর তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার আগের রূপ ধারণ করছে। এই চক্র বন্ধ হওয়া দরকার।

