নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে মন্ত্রী পরিষদের একজন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দাবি জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলাবাসীর পক্ষ থেকে খোলা চিঠি দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন নিজের ভেরিফাই ফেইসবুকের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক খোলা চিঠি দেন। নিচে চিঠির হুবহু তুলে ধরা হলো:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমীপে
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
ঢাকা, বাংলাদেশ
বিষয়ঃ নারায়ণগঞ্জ জেলার যোগ্য সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু-কে মন্ত্রী পরিষদে অন্তর্ভুক্তকরণের আবেদন।
আসসালামু আলাইকুম।
আমরা নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের জনগণ গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক প্রত্যাশা সহকারে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নারায়ণগঞ্জ, ঐতিহ্যগতভাবে ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ নামে পরিচিত, বাংলাদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দেশের রাজস্ব ও উৎপাদন খাতে এই জেলার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রূপগঞ্জ অঞ্চল বর্তমানে জাতীয় উন্নয়নের এক কৌশলগত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রূপগঞ্জে অবস্থিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প দেশের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক নগর উন্নয়ন উদ্যোগ, যা রাজধানী ঢাকার সম্প্রসারিত অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। পাশাপাশি গাউছিয়া-ভুলতা বাণিজ্যিক এলাকা, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল, শীতলক্ষ্যা নদীকেন্দ্রিক শিল্প ও বাণিজ্য, এবং মেঘনা ঘাটসহ বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত স্থাপনাসমূহ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু-কে মন্ত্রী পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী।
তার এই অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্য যৌক্তিক দিকসমূহ নিম্নরূপ—
১. অর্থনৈতিক নেতৃত্ব ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ:
ব্যবসায়ী সমাজের নেতৃত্বদানকারী এবং শিল্প খাতে অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি পূর্বাচলসহ নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
২. শিল্প ও বাণিজ্যবান্ধব নীতি প্রণয়ন:
নারায়ণগঞ্জের বৃহৎ শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক হাবসমূহের বাস্তব চাহিদা সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা জাতীয় নীতি প্রণয়নে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।
৩. অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা:
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পসহ চলমান বৃহৎ উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সমন্বিত করতে স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৪. আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক উন্নয়ন:
শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় স্থিতিশীলতা, যুব উন্নয়ন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর নীতিগত ভূমিকা প্রয়োজন।
তাই, মাননীয় নীতিনির্ধারক, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কৌশলগত গুরুত্ব এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান বিবেচনায় এই অঞ্চলের একজন অভিজ্ঞ ও শিল্পবান্ধব সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা সার্বিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
অতএব, নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় উপরোক্ত বিষয়ে সদয় বিবেচনার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
আপনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে দেশ আরও এগিয়ে যাবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
বিনীত নিবেদনকারী
নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে
আলহাজ্ব গোলাম ফারুক খোকন
সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি।

