ঠাকুরগাঁও: প্রবল ঝড় আর ভারী বৃষ্টিপাতের মুখে পড়ে হঠাৎ উপড়ে যায় একটি বিশাল আকৃতির পুরনো বাঁশঝাড়। মুহূর্তের মধ্যে সেটি আছড়ে পড়ে রেললাইনের ওপর। বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। যেকোনো মুহূর্তে ধেয়ে আসতে পারতো কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন, ঘটতে পারত বড় ধরনের বিপর্যয়।
ঠিক এমন এক সংকটাপন্ন সময়ে এগিয়ে এলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দুই ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে তারা রেললাইন সচল করেন, রক্ষা করেন সম্ভাব্য বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল পৌনে চারটার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১১ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের হরিনারায়ণপুর (মুন্সিপাড়া) এলাকায় বিমানবন্দরের পূর্ব পাশে ঘটে এই ঘটনা।
প্রবল ঝড়ো হাওয়ার সাথে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ের তীব্রতায় রেললাইনের ঠিক পাশে থাকা একটি বিশাল আকৃতির ও প্রাচীন বাঁশঝাড় শিকড়-মাটিসহ উপড়ে সরাসরি রেললাইনের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঐ রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় এবং লাইনের ওপর বিশাল বাধা থাকায় যেকোনো সময় একটি বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ঘটনাটি জানার পরপরই দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠেন স্থানীয় আনসার ভিডিপি সদস্যরা। আনসার ও ভিডিপি ঠাকুরগাঁও জেলা কমান্ড্যান্টের নির্দেশনা পেয়ে তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজের উদ্যোগ নেন ১১ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের আনসার কমান্ডার জনাব মো: আনোয়ার হোসেন। তার নেতৃত্বে স্থানীয় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছোটেন। চারিদিকে তখনো চলছে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করেই তারা কাজে নেমে পড়েন। কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই, যার কাছে যা আছে তা নিয়ে শুধুমাত্র সাহসিকতা আর দায়িত্ববোধকে পুঁজি করে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম। অবশেষে দুই ঘণ্টা পর রেললাইনের ওপর থেকে বিশাল বাঁশঝাড়টি সম্পূর্ণ অপসারণ করতে সক্ষম হন তারা।
আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের এই ঝটিকা অভিযানের ফলে লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর হয় এবং ঐ রুটে আবার স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল। কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই স্বস্তি ফেরে স্থানীয় বাসিন্দা ও রেল কর্তৃপক্ষের মনে।

